১. হজের কুরবানি (দমে শোকর) কার ওপর ওয়াজিব?
হজের প্রকারভেদের ওপর কুরবানির বাধ্যবাধকতা নির্ভর করে:
- তামাত্তু ও কিরান হজকারীর ওপর: এক সফরে ওমরা ও হজ উভয়টি সম্পন্ন করার সৌভাগ্য দান করায় আল্লাহর শোকরিয়া হিসেবে কুরবানি করা ওয়াজিব। কুরবানি না দিলে হজ অপূর্ণ থেকে যায় এবং কাফফারা দিতে হয়।
- ইফরাদ হজকারীর ওপর: শুধুমাত্র হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধাকারীর ওপর হজের কুরবানি ওয়াজিব নয়, বরং মুস্তাহাব।
- নিয়মিত কুরবানি (ঈদুল আজহার কুরবানি): মুসাফির অবস্থায় না থাকলে দেশীয় কুরবানি ওয়াজিব হয়; তবে অধিকাংশ হাজী সফরে মুসাফির থাকেন বলে শুধু হজের কুরবানিই যথেষ্ট হয়।
২. কুরবানি, হলক ও কংকরের ধারাবাহিকতা (তারতীব)
১০ জিলহজ হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তিনটি আমলের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব:
- প্রথম কাজ: ১০ জিলহজ সকালে বড় জামরায় (জামরাতুল আকাবা) ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা।
- দ্বিতীয় কাজ: হজের কুরবানি (দমে শোকর) সম্পন্ন করা।
- তৃতীয় কাজ: মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটা (হলক বা কসর)।
কুরবানি নিশ্চিত হওয়ার পূর্বে মাথা মুণ্ডালে কাফফারা (দম) ওয়াজিব হয়ে যায়, তাই কুরবানি সম্পন্ন হওয়ার সঠিক খবর জানা অত্যন্ত জরুরি।
৩. সৌদি সরকারি আদাহি (Adahi) কুপন কেনার নিয়ম
মিনা ও মক্কায় অবৈধ বা অননুমোদিত দালালদের মাধ্যমে পশু জবাইয়ে বহু হাজী প্রতারিত হন। সৌদি সরকার হজযাত্রীদের সুবিধার্থে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IsDB) এর মাধ্যমে আদাহি (Adahi Project) পরিচালনা করে। ব্যাংকের মাধ্যমে কুপন কিনলে নির্ধারিত সময়ে শরীয়াহসম্মত উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করা হয় এবং স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পাওয়া যায়। আল-মারকায কাফেলা তাদের হাজীদের জন্য সরাসরি সরকারি কুপন সংগ্রহ ও কুরবানি নিশ্চিতের দায়িত্ব নেয়।
৪. কাফফারা ও ভুলত্রুটির দম সংক্রান্ত বিধান
যদি কোনো হাজী ইহরামের কোনো বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করেন (যেমন সুগন্ধি ব্যবহার, সেলাইযুক্ত কাপড় পরা) বা কোনো ওয়াজিব আমল তারতীব মতো আদায় না করেন, তবে তাঁর ওপর 'দম' বা কাফফারা ওয়াজিব হয়। এই কাফফারার পশু অবশ্যই হারাম শরীফের সীমানার (হুদুদে হারাম) মধ্যে জবাই করতে হয়, দেশের মাটিতে জবাই করলে কাফফারা আদায় হবে না। যেকোনো ফতোয়ার জন্য আমাদের কাফেলার মুফতী বোর্ডের সহায়তা নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
তামাত্তু হজে কুরবানি না দিলে কি হজ হবে?
তামাত্তু হজে কুরবানি ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি না দিলে ওয়াজিব ত্যাগের গোনাহ হবে এবং কাফফারা হিসেবে অন্য একটি পশু জবাই করতে হবে। কুরবানির সামর্থ্য না থাকলে হজের দিনগুলোতে ৩টি এবং বাড়ি ফিরে ৭টি মোট ১০টি রোজা রাখতে হয়।
হজের কুরবানি কি নিজের দেশে আত্মীয়দের দিয়ে করানো যায়?
না। হজের কুরবানি (দমে শোকর) অবশ্যই হুদুদে হারামের (মক্কা মুকাররমার হেরেম এলাকার) সীমানার ভেতর জবাই হতে হবে। নিজের দেশে টাকা পাঠিয়ে কুরবানি করালে হজের ওয়াজিব আদায় হবে না।
কুরবানির খবর নিশ্চিত না হয়ে মাথা মুণ্ডানো যাবে কি?
না। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী কুরবানি নিশ্চিত হওয়ার পরেই মাথা মুণ্ডাতে হবে। আগে মুণ্ডালে কাফফারা ওয়াজিব হবে। আল-মারকায কাফেলার মুয়াল্লিমগণ কুরবানি সম্পন্ন হওয়া মাত্রই হাজীদের সংকেত দেন।
এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।