হজের ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ
হজের ফরজ ৩টি:
- ইহরাম বাঁধা (নিয়ত ও তালবিয়া)।
- ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান (উকুফে আরাফা)।
- তাওয়াফে যিয়ারত (তাওয়াফে ইফাযা)।
গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবসমূহ: মুজদালিফায় অবস্থান, জামরাতে কংকর নিক্ষেপ, তামাত্তু ও কিরান হজে কুরবানি, মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছাঁটা (হলক/কসর), সাফা-মারওয়ায় সাঈ এবং বহিরাগতদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ। কোনো ফরজ ছুটে গেলে হজ আদায় হয় না; ওয়াজিব ছুটে গেলে দম (কাফফারা) দিতে হয়।
হজের আগে: ইহরাম ও ওমরা (তামাত্তু হজকারীদের জন্য)
বাংলাদেশ থেকে বিমানে যাত্রাকালে মীকাত (ইয়ালামলামের বরাবর) অতিক্রমের আগেই ইহরাম বাঁধতে হয়। তামাত্তু হজকারী প্রথমে ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছে ওমরা সম্পন্ন করেন, এরপর ইহরাম খুলে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন। ওমরার বিস্তারিত পদ্ধতি দেখুন ওমরার নিয়ম গাইডে।
৮ জিলহজ (ইয়াওমুত তারবিয়া): মিনায় গমন
মক্কায় নিজ অবস্থান থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে তালবিয়া পড়তে পড়তে মিনায় যান। মিনায় যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও পরদিন ফজর — পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সুন্নত।
৯ জিলহজ (আরাফার দিন): হজের মূল রুকন
সূর্যোদয়ের পর আরাফার ময়দানে যান। সূর্য ঢলে পড়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ। এ সময় বেশি বেশি দোয়া, যিকির, তওবা ও ইস্তিগফার করুন। সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার দিকে রওনা হন।
৯ জিলহজ দিবাগত রাত: মুজদালিফায় অবস্থান
মুজদালিফায় পৌঁছে এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশা একসাথে আদায় করুন। রাত সেখানে কাটান এবং ফজরের পর সূর্যোদয়ের কিছু আগ পর্যন্ত অবস্থান (ওয়াজিব) করুন। এখান থেকে কংকর সংগ্রহ করে নেওয়া যায়।
১০ জিলহজ (কুরবানির দিন): চারটি আমল
- জামরাতুল আকাবায় ৭টি কংকর নিক্ষেপ।
- কুরবানি (তামাত্তু ও কিরান হজকারীর জন্য ওয়াজিব)।
- হলক বা কসর — পুরুষের জন্য মাথা মুণ্ডানো উত্তম; নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে সামান্য কাটবেন।
- তাওয়াফে যিয়ারত ও সাঈ — ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে আদায় করতে হয়।
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী প্রথম তিনটি আমলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব।
১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ: মিনায় অবস্থান ও তিন জামরায় কংকর
এই দিনগুলোতে মিনায় রাত্রিযাপন করুন এবং সূর্য ঢলে পড়ার পর ছোট, মধ্যম ও বড় — তিন জামরায় ৭টি করে মোট ২১টি কংকর নিক্ষেপ করুন। ১২ জিলহজ কংকর নিক্ষেপের পর সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করা যায়; থেকে গেলে ১৩ তারিখের কংকরও নিক্ষেপ করতে হয়।
বিদায়ী তাওয়াফ ও মদিনা যিয়ারত
মক্কা ত্যাগের আগে বহিরাগত হাজীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ ওয়াজিব। মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীতে নামাজ ও রওজা মুবারক যিয়ারত হজের অংশ না হলেও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আমাদের অভিজ্ঞ মুয়াল্লিমগণ পুরো সফরে প্রতিটি আমল হাতে-কলমে করিয়ে দেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
হজের ফরজ কয়টি ও কী কী?
হজের ফরজ ৩টি: ইহরাম বাঁধা, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান এবং তাওয়াফে যিয়ারত।
আরাফার ময়দানে অবস্থান না করলে কি হজ হবে?
না। আরাফায় অবস্থান হজের প্রধান রুকন; নির্ধারিত সময়ে আরাফায় উপস্থিত না হলে সেই বছরের হজ আদায় হয় না।
হজের ওয়াজিব ছুটে গেলে কী করতে হয়?
কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে হজ আদায় হয়ে যায়, তবে দম (হেরেমের সীমানায় একটি পশু জবাই) দিতে হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিধান জানতে আমাদের মুফতী বোর্ডকে প্রশ্ন করুন।
বাংলাদেশিরা সাধারণত কোন প্রকারের হজ করেন?
দীর্ঘ সফর ও সুবিধার কারণে বাংলাদেশ থেকে অধিকাংশ হাজী তামাত্তু হজ পালন করেন।
এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।