ওমরার নিয়ম: ধাপে ধাপে ওমরা পালনের সহীহ পদ্ধতি
হোম / গাইড / ওমরা নির্দেশিকা
ওমরা নির্দেশিকা · শরঈ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য

ওমরার নিয়ম: ধাপে ধাপে ওমরা পালনের সহীহ পদ্ধতি

হালনাগাদ: ২৭ October, ২০২৬ লাইসেন্স নং ১৩০৪ যাচাইকৃত: বিজ্ঞ মুফতী পরিষদ
ওমরা (ওমরাহ/উমরাহ) হলো বছরের যেকোনো সময় পালনযোগ্য একটি সুন্নত ইবাদত। ওমরার মূল আমল চারটি — ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ এবং হলক/কসর। এর মধ্যে ইহরাম শর্ত ও তাওয়াফ ফরজ; সাঈ ও হলক/কসর ওয়াজিব। নিচে প্রতিটি ধাপ সহজভাবে দেওয়া হলো।

ধাপ ১: ইহরাম বাঁধা ও নিয়ত

গোসল বা অজু করে পুরুষেরা সেলাইবিহীন দুটি সাদা চাদর পরবেন; নারীরা স্বাভাবিক শালীন পোশাকে থাকবেন (মুখ ও হাত খোলা রাখবেন)। দুই রাকাত নামাজ পড়ে ওমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করুন। বিমানে গেলে মীকাত অতিক্রমের আগেই ইহরাম বাঁধতে হবে — সাধারণত বিমানে ঘোষণা দেওয়া হয়।

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ

  • পুরুষদের সেলাইযুক্ত পোশাক পরা ও মাথা ঢাকা।
  • চুল, নখ কাটা বা শরীরের লোম উপড়ানো।
  • সুগন্ধি ব্যবহার।
  • স্থলজ প্রাণী শিকার করা।
  • স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা ও এ সংক্রান্ত আচরণ।
  • ঝগড়া-বিবাদ ও অশ্লীল কথা।

ধাপ ২: কাবা শরীফ তাওয়াফ (৭ চক্কর)

মসজিদুল হারামে প্রবেশ করে হাজরে আসওয়াদের বরাবর থেকে তাওয়াফ শুরু করুন। প্রতি চক্করের শুরুতে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত তুলে بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ বলে ইস্তিলাম করুন। পুরুষেরা প্রথম তিন চক্করে রমল (বীরদর্পে দ্রুত হাঁটা) এবং পুরো তাওয়াফে ইযতিবা (ডান কাঁধ খোলা রাখা) করবেন। রুকনে ইয়ামানি থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত পড়ুন:

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

সাত চক্কর শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে (ভিড় হলে মসজিদের যেকোনো স্থানে) দুই রাকাত নামাজ পড়ুন এবং জমজমের পানি পান করুন।

ধাপ ৩: সাফা ও মারওয়ায় সাঈ

সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে এক চক্কর, মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে দ্বিতীয় চক্কর — এভাবে সাত চক্কর মারওয়ায় গিয়ে শেষ হবে। সবুজ বাতি চিহ্নিত অংশে পুরুষেরা দ্রুত হাঁটবেন। সাফায় উঠে কাবার দিকে ফিরে দোয়া করা সুন্নত।

ধাপ ৪: হলক বা কসর — ইহরাম থেকে মুক্তি

সাঈ শেষে পুরুষেরা পুরো মাথা মুণ্ডাবেন (হলক — উত্তম) অথবা চুল ছোট করবেন (কসর)। নারীরা চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কড় পরিমাণ কাটবেন। এর মাধ্যমে ওমরা সম্পন্ন হয় এবং ইহরামের নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। আরও মাসআলা জানতে দেখুন ওমরার মাসআলা।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ওমরার ফরজ কয়টি?

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ওমরার ফরজ দুটি: ইহরাম (শর্ত) এবং তাওয়াফ। সাফা-মারওয়ায় সাঈ ও হলক/কসর ওয়াজিব।

ওমরা করতে কত সময় লাগে?

ভিড়ের ওপর নির্ভর করে তাওয়াফ, সাঈ ও হলক মিলিয়ে সাধারণত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে ওমরার মূল আমল সম্পন্ন করা যায়।

নারীরা কি ইহরামের জন্য বিশেষ পোশাক পরবেন?

না। নারীরা স্বাভাবিক শালীন ও ঢিলেঢালা পোশাকেই ইহরাম বাঁধবেন; শুধু নেকাব ও হাতমোজা পরবেন না, পরপুরুষের সামনে মুখ আড়াল রাখার চেষ্টা করবেন।

বিমানে কখন ইহরাম বাঁধতে হয়?

বাংলাদেশ থেকে জেদ্দাগামী বিমান মীকাত (ইয়ালামলাম) অতিক্রমের আগেই ইহরাম বাঁধতে হয়। সুবিধার জন্য অনেকে ঢাকা বিমানবন্দর বা বিমানে ওঠার আগেই ইহরামের কাপড় পরে নেন এবং মীকাতের আগে নিয়ত করেন।

ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে প্রণীত

এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।