তালবিয়া ও হজ-ওমরার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া (আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)
হোম / গাইড / সাধারণ নির্দেশিকা
সাধারণ নির্দেশিকা · শরঈ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য

তালবিয়া ও হজ-ওমরার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া (আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ)

হালনাগাদ: ২৭ October, ২০২৬ লাইসেন্স নং ১৩০৪ যাচাইকৃত: বিজ্ঞ মুফতী পরিষদ
ইহরাম বাঁধার পর থেকে হাজী ও ওমরা পালনকারীর মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় তালবিয়া। নিচে তালবিয়াসহ হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ মাসনুন দোয়াগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ দেওয়া হলো। নির্দিষ্ট দোয়া মুখস্থ না থাকলে নিজের ভাষায় দোয়া করাও জায়েজ।

তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক)

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ: আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির। আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আপনারই, আপনার কোনো শরিক নেই।

পুরুষেরা উচ্চস্বরে এবং নারীরা নিম্নস্বরে তালবিয়া পড়বেন। ইহরাম বাঁধার সময় অন্তত একবার তালবিয়া পড়া জরুরি।

হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলামের সময়

بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার। অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান।

রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আযাবান নার।

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন। (সূরা বাকারা: ২০১)

সাফা পাহাড়ে ওঠার সময়

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ

উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ-ইরিল্লাহ। অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (সূরা বাকারা: ১৫৮)

আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁর, এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। রাসুলুল্লাহ ﷺ এটিকে আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া বলেছেন (তিরমিযি)।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

তালবিয়া কখন থেকে কখন পর্যন্ত পড়তে হয়?

ইহরাম বাঁধার সময় থেকে তালবিয়া শুরু হয়। ওমরায় তাওয়াফ শুরুর আগে এবং হজে ১০ জিলহজ জামরাতুল আকাবায় প্রথম কংকর নিক্ষেপের সময় তালবিয়া পড়া বন্ধ করতে হয়।

দোয়া মুখস্থ না থাকলে কী করব?

তাওয়াফ ও সাঈর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাধ্যতামূলক নয়। নিজের ভাষায় মন থেকে দোয়া, যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করা যায়।

নারীরা কি উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়বেন?

না, নারীরা নিচু আওয়াজে তালবিয়া পড়বেন।

ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে প্রণীত

এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।