১. তামাত্তু হজ
হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম দশক) প্রথমে শুধু ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা সম্পন্ন করে ইহরাম খুলে ফেলা, এরপর ৮ জিলহজ নতুন করে হজের ইহরাম বাঁধা। তামাত্তু হজকারীর ওপর কুরবানি (দমে শোকর) ওয়াজিব। দীর্ঘ সময় ইহরাম অবস্থায় থাকতে হয় না বলে বাংলাদেশিদের জন্য এটিই সবচেয়ে সহজ ও প্রচলিত।
২. কিরান হজ
একই ইহরামে ওমরা ও হজ — দুটোর নিয়ত করা এবং ওমরার পর ইহরাম না খুলে সেই ইহরামেই হজ সম্পন্ন করা। হানাফি মাযহাবে কিরান সর্বোত্তম, তবে দীর্ঘ সময় ইহরামের বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। কিরান হজকারীর ওপরও কুরবানি ওয়াজিব।
৩. ইফরাদ হজ
শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং হজের সঙ্গে ওমরা না করা। ইফরাদ হজকারীর ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয়, মুস্তাহাব। সাধারণত মক্কার অধিবাসী ও মীকাতের ভেতরের লোকেরা এভাবে হজ করেন।
হজ ও ওমরার মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | হজ | ওমরা |
|---|---|---|
| বিধান | সামর্থ্যবানের ওপর জীবনে একবার ফরজ | সুন্নতে মুয়াক্কাদা |
| সময় | নির্দিষ্ট — ৮ থেকে ১৩ জিলহজ | বছরের যেকোনো সময় (৯–১৩ জিলহজ ব্যতীত) |
| আরাফা, মুজদালিফা, মিনা | আবশ্যক | নেই |
| কুরবানি | তামাত্তু ও কিরানে ওয়াজিব | নেই |
| সময়কাল | প্রায় ৫–৬ দিনের আমল | কয়েক ঘণ্টায় সম্পন্ন |
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
কোন প্রকারের হজ সবচেয়ে উত্তম?
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কিরান হজ সর্বোত্তম, এরপর তামাত্তু, এরপর ইফরাদ। তবে বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘ সময় ইহরাম রক্ষা কঠিন বলে অধিকাংশ হাজী তামাত্তু হজ করেন।
তামাত্তু হজে কুরবানি কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, তামাত্তু ও কিরান হজকারীর ওপর হেরেমের সীমানায় কুরবানি (দমে শোকর) করা ওয়াজিব।
ওমরা করলে কি হজের ফরজ আদায় হয়?
না। ওমরা আলাদা ইবাদত; এর মাধ্যমে হজের ফরজ আদায় হয় না। সামর্থ্য থাকলে হজ আলাদাভাবে আদায় করতে হবে।
এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।