মহিলাদের হজ ও ওমরার নিয়ম: মাহরাম সংক্রান্ত বিধান, ইহরাম ও বিশেষ মাসআলা
হোম / গাইড / সাধারণ নির্দেশিকা
সাধারণ নির্দেশিকা · শরঈ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য

মহিলাদের হজ ও ওমরার নিয়ম: মাহরাম সংক্রান্ত বিধান, ইহরাম ও বিশেষ মাসআলা

হালনাগাদ: ২৭ October, ২০২৬ লাইসেন্স নং ১৩০৪ যাচাইকৃত: বিজ্ঞ মুফতী পরিষদ
পুরুষ ও নারী উভয়ের ওপরই সামর্থ্য থাকলে হজ ফরজ। তবে নারীদের ক্ষেত্রে শারঈ পর্দার বিধান, মাহরাম পুরুষ থাকা এবং ঋতুস্রাবজনিত বিশেষ কিছু মাসআলা ও নিয়মাবলি প্রযোজ্য। বহু মা-বোন ওমরা বা হজে যাওয়ার সময় এই বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। নিচে সুন্নাহর আলোকে নারীদের হজ ও ওমরার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা আলোচনা করা হলো।

১. মহিলাদের ইহরামের পোশাক ও সাজসজ্জা

পুরুষদের মতো নারীদের জন্য কোনো বিশেষ সেলাইবিহীন চাদর পরার বাধ্যবাধকতা নেই। নারীদের ইহরামের নিয়ম:

  • শালীন ঢিলেঢালা পোশাক: যেকোনো রঙের শালীন বোরকা, ম্যাক্সি বা ঢিলেঢালা সাধারণ পোশাক পরেই ইহরাম বাঁধা যায়। সাদা বা কালো হওয়া জরুরি নয়, তবে মার্জিত ও মোটা কাপড়ের হওয়া চাই যাতে শরীর বোঝা না যায়।
  • মুখমণ্ডল ও হাত: ইহরাম অবস্থায় নারীরা কাপড়ে সরাসরি মুখ ঢাকবেন না (যেমন টাইট নেকাব লাগানো যাবে না) এবং হাতমোজা পরবেন না। তবে পরপুরুষের সামনে ক্যাপ বা ওড়না ঝুলিয়ে মুখ আড়াল করে রাখা ওয়াজিব/মুস্তাহাব।
  • সুগন্ধি ও সাজগোজ বর্জন: ইহরামের পূর্বে ও পরে কোনো ধরনের সুগন্ধি, সেন্ট, পারফিউমযুক্ত তেল বা লোশন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. মাহরাম সংক্রান্ত শরঈ বিধান ও সৌদি সরকারের বর্তমান নিয়ম

শরীয়তের সাধারণ বিধান অনুযায়ী তিন দিন বা তার বেশি দূরত্বের সফরে নারীদের সাথে বৈধ মাহরাম (যেমন স্বামী, পিতা, পুত্র, সহোদর ভাই, দাদা, নানা, শ্বশুর ইত্যাদি) থাকা ওয়াজিব। তবে বর্তমান সৌদি ভিসা নীতিমালায় নারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে গ্রুপ ভিসায় ওমরাহ পালনের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। শরঈ সতর্কতার জন্য আল-মারকায কাফেলায় বিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিবারের সাথে বা শরঈ গ্রুপের মাধ্যমে মা-বোনদের শতভাগ নিরাপদে সফর সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকে।

৩. হজের দিনগুলোতে ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) শুরু হলে করণীয়

হজ বা ওমরা সফরে পিরিয়ড শুরু হলে নারীরা কখনো হতাশ হবেন না, কারণ এটি আল্লাহর একটি স্বাভাবিক বিধান। নিয়মাবলী:

  • ঋতুবতী অবস্থায় ইহরাম বাঁধা, তালবিয়া পড়া, জিকির, দোয়া ও মোনাজাত করা সম্পূর্ণ জায়েজ।
  • মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান এবং জামরাতে কংকর নিক্ষেপের সকল আমল স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করবেন।
  • শুধুমাত্র মসজিদ ও তাওয়াফ নিষিদ্ধ: মসজিদে হারামে প্রবেশ ও কাবা শরীফ তাওয়াফ করা যাবে না। পবিত্র হওয়ার পর গোসল করে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন।
  • ফ্লাইটের সময় সন্নিকটে থাকলে বিজ্ঞ মুফতী বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করে বিকল্প শরঈ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের কাফেলায় তাৎক্ষণিক ফতোয়ার ব্যবস্থা থাকে।

৪. নারীদের তাওয়াফ, সাঈ ও চুল কাটার নিয়ম

পুরুষদের মতো নারীদের তাওয়াফে রমল (দৌড়ানো) বা ডান কাঁধ খোলা (ইজতিবা) করার কোনো নিয়ম নেই। একইভাবে সাফা-মারওয়ায় সবুজ বাতির নিচে পুরুষদের মতো দ্রুত দৌড়াবেন না, বরং স্বাভাবিক পদক্ষেপে হাঁটবেন। ওমরা বা হজের শেষে ইহরাম থেকে মুক্ত হতে নারীরা মাথা মুণ্ডাবেন না (হলক সম্পূর্ণ হারাম); শুধুমাত্র মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙুলের এক কড় (প্রায় এক ইঞ্চি) পরিমাণ চুল কাটবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

মহিলারা কি মুখে নেকাব বা হাতমোজা পরতে পারবেন?

ইহরাম অবস্থায় সরাসরি মুখের চামড়ায় লাগানো টাইট নেকাব বা হাতমোজা পরা নিষিদ্ধ। তবে পরপুরুষের দৃষ্টি এড়াতে মাথার ওপর ক্যাপ বা ছাতা জাতীয় কিছু দিয়ে তার ওপর থেকে ওড়না ঝুলিয়ে মুখ আড়াল করে রাখতে পারেন, যাতে কাপড় চেহারায় সরাসরি না লাগে।

হজের সময় ঋতুস্রাব হলে কি ওষুধ খেয়ে বন্ধ রাখা জায়েজ?

যদি কোনো নারী ডাক্তারের পরামর্শে পিরিয়ড পিছিয়ে দেওয়ার নিরাপদ ওষুধ সেবন করেন এবং রক্তপাত পুরোপুরি বন্ধ থাকে, তবে তাঁর তাওয়াফ ও নামাজ সহীহ হবে। তবে ওষুধ খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

নারীদের চুল কে কেটে দেবে?

মহিলা নিজেই নিজের চুলের অগ্রভাগ কাটতে পারেন অথবা কোনো মাহরাম পুরুষ বা অন্য কোনো নারী কেটে দিতে পারেন।

ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে প্রণীত

এই নির্দেশিকার শরঈ মাসআলা ও তথ্যসমূহ আল-মারকায কাফেলার বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ও অভিজ্ঞ মুয়াল্লিম পরিষদ কর্তৃক যাচাইকৃত। ব্যক্তিগত কোনো জটিল মাসআলার সমাধানে মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন পাঠান।